উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে একমত হয়েছে কানাডা ও মেক্সিকো। মেক্সিকো সিটিতে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক শেষে বলা হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও যৌথ অংশীদারত্বে অটল থাকতে চায়। খবর বিবিসি।
২০২৬ সালে ত্রিদেশীয় মুক্তি বাণিজ্যচুক্তি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা এগ্রিমেন্টের (ইউএসএমসিএ) পর্যালোচনা হবে। তাই দেশগুলোর সমন্বয়ের গুরুত্ব এখন আরো বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ব্যবসায়ীদের মতামত নেয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তিন দেশের সম্পর্ক এখন মূলত ট্রাম্পের শুল্কনীতির ওপর নির্ভর করছে। চলতি বছর কানাডার ওপর ইউএসএমসিএ-বহির্ভূত পণ্যে শুল্ক ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে। খাতভেদে আলাদা শুল্কও যুক্ত হয়েছে। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও অটোমোবাইল খাতের সরবরাহ চেইনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মেক্সিকোর ওপর চাপানো শুল্ক পরিস্থিতি আরো কঠিন। দেশটির ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা ৩১ জুলাই থেকে ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রয়েছে। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে ২৫ শতাংশ ‘ফেন্টানিল শুল্ক’ কার্যকর আছে। যদিও ইউএসএমসিএর আওতায় দুই দেশের অনেক পণ্য শুল্কমুক্ত, তবু খাতভিত্তিক শুল্কের কারণে আমদানি-রফতানির খরচ ও সময় বাড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ও সরবরাহ পরিকল্পনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
এ অবস্থায় কানাডা ও মেক্সিকো জানিয়েছে, তারা ঘনিষ্ঠভাবে বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করবে। যার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় একসঙ্গে অবস্থান নেয়া। ইউএসএমসিএ পর্যালোচনায়ও উত্তর আমেরিকার প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে চায় তারা। কানাডার জন্য মেক্সিকো একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার।
২০২৪ সালে কানাডা ও মেক্সিকোর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের আকার ছিল ৫ হাজার ৫৪০ কোটি কানাডিয়ান ডলার। এ প্রবাহ বজায় রাখতে নীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় জোর দিচ্ছে দুই দেশ।
ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও অটোমোবাইল খাতে। এসব খাতে ২৫-৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানি প্রভাবিত হয়েছে এবং উৎপাদন খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে ইউএসএমসিএর স্থানীয় উপকরণের শর্ত মানতে না পারলে রফতানিকারকরা অতিরিক্ত শুল্কের ঝুঁকিতে পড়ছেন। ফলে তাদের ক্রয়াদেশ পরিকল্পনা, পরিবহন-সংক্রান্ত সময়সূচি ও চূড়ান্ত দামের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনে ইউএসএমসিএর ছয় বছর মেয়াদি পর্যালোচনা বিনিয়োগকারীদের ভাবনায় বড় প্রভাব ফেলবে। সময়মতো সিদ্ধান্ত এলে উত্তর আমেরিকার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, অটোপার্টস ও কিছু জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে অনিশ্চয়তা কমবে। তবে আলোচনা আটকে গেলে খরচ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আবারো চাপে পড়বে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন মূল কৌশল হলো ইউএসএমসিএর ‘পণ্যের উৎসসংক্রান্ত নিয়ম’ কঠোরভাবে মানা। পাশাপাশি বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে। শুল্কের প্রবণতা অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নবায়নে প্রতিযোগিতা যথাযথ রাখতে হবে। এতে বাজার ঝুঁকি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।